সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

প্রসঙ্গ: হাওরে ভূ-উপরিস্থ উন্নয়ন প্রকল্প

  • আপলোড সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-১২-২০২৫ ১০:১৮:৩৩ অপরাহ্ন
প্রসঙ্গ: হাওরে ভূ-উপরিস্থ উন্নয়ন প্রকল্প
হাওর অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ ও গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে এই অঞ্চল তার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেনি। সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের চার জেলায় প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’ সেই দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণের এক বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর পতিত জমি চাষের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত ৫১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি খাদ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। হাওর এলাকার কৃষকদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক খবর। খাল ও পাহাড়ি নালা খনন, গোপাট পাকাকরণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর যে সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয়। বিশেষ করে হাওরের গোপাট পাকাকরণ কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি। বোরো মৌসুমে উৎপাদিত ধান নৌপথ ও সড়কপথে সহজে পরিবহন করতে না পারায় কৃষকদের সময়, শ্রম ও অর্থের অপচয় হয়। এই অবকাঠামো উন্নয়ন হলে কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা সহজ হবে। পাশাপাশি ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়িয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানো পরিবেশগত দিক থেকেও একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তবে বাস্তবতা হলো- হাওর অঞ্চলে অতীতের বহু উন্নয়ন প্রকল্প প্রত্যাশিত সুফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে। খাল খননের নামে মাটি না কেটে বরাদ্দ লোপাট, নি¤œমানের ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ, অকার্যকর রেগুলেটর - এসব অভিযোগ নতুন নয়। ফলে এবারও এই বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে একই চক্র সক্রিয় হলে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এবং কৃষক সমাজ তাই যথার্থভাবেই কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন। প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছ ঠিকাদার নিয়োগ, মানসম্মত নির্মাণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা না গেলে এই বিপুল অর্থের বিনিয়োগ অর্থহীন হয়ে পড়বে। কেবল কাগজে-কলমে নয়, মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান ও টেকসই হতে হবে। সরকারের প্রাচীন কৃষি প্রতিষ্ঠান বিএডিসির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন একটি ইতিবাচক দিক। তবে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম রক্ষা করতে হলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ জরুরি। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, হাওরের ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের কৃষিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু সম্ভাবনার এই দ্বার তখনই উন্মুক্ত হবে, যখন উন্নয়ন মানেই শুধু ব্যয় নয়- জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও টেকসই ফল নিশ্চিত করা হবে। হাওরের মানুষ এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব ফল দেখতে চায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স